সাহিত্যের সমাজতত্ত্বের ক্রমবিকাশ ও উপাদান
Keywords:
মার্কসবাদি-সমাজতাত্ত্বিক, মার্কসবাদি-সাহিত্য, মার্কসবাদি-সাহিত্যিক, শ্রেণিসংগ্রাম, সমাজবাস্তবতা, সমাজবিবর্তনAbstract
সাহিত্যের সমাজতত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানের একটি শাখা। বর্তমানে যেকোনো ভাষার সাহিত্য চর্চায় এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে সমাজবিজ্ঞানে ‘সাহিত্যের সমাজতত্ত্ব’ নামক শাখাটির উৎপত্তি ঘটেছে। যেকোনো মহৎ সাহিত্যেই সুপ্তভাবে বিদ্যমান থাকে সমাজতাত্ত্বিক নানা উপাদান। সমাজজীবনের যেকোনো সময়ের সামাজিক স্তরবিন্যাস, শ্রেণিবৈশিষ্ট্য, শ্রেণিসংগ্রাম, শোষণ, বঞ্চনা, সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি আমরা সামসময়িক সাহিত্যের আধার থেকে আবিষ্কার করতে পারি। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে পর্যবেক্ষণ করলে যেকোনো সমাজকে আমরা যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করতে পারি এবং সাহিত্যিকদের মনোভঙ্গি স্পষ্ট বুঝে নিতে পারি। বস্তুত, মার্কস ও এঙ্গেলস-এর বিভিন্ন লেখার সূত্র ধরে সাহিত্য-সমালোচক, ঐতিহাসিক এবং সমাজবিজ্ঞানিগণ সাহিত্যের সমাজতত্ত্ব বিষয়টির গোড়াপত্তন করেন। অতপর লেনিন, ট্রটস্কি, ক্রিস্টোফার কডওয়েল, র্যালফ ফক্স, আর্নস্ট ফিশার, জ্যাঁ পল সার্তে, টেরি ইগলটন প্রমুখ দার্শনিক-সমালোচক-সমাজবিজ্ঞানির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ-বিতর্কের মধ্য দিয়ে বিংশ শতাব্দিতে এসে সমাজবিজ্ঞানের এই শাখাটির বিচিত্র বিকাশ ঘটে। মূলত, ‘সাহিত্যের সমাজতত্ত্বের ক্রমবিকাশ ও উপাদান’ বিষয়ের এই প্রবন্ধটি দার্শনিক বক্তব্য ও সাহিত্যকর্মভিত্তিক নমুনা বিশ্লেষণের পরিক্রমায় রচিত হয়েছে। সমাজ ও সাহিত্যের সম্পর্কের ক্রম-বিকাশগত পর্যাপ্ত প্রেক্ষাপট ও উপাদান রয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে কেবল সমাজতাত্ত্বিক বাস্তবতার সমাজবিজ্ঞানিগণের আদর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে যেসব উপাদান সাহিত্যের সমাজতত্ত্বের বিকাশকে ত্বরান্বিত করেছে, সেসবের অনুসন্ধানই এর বিবেচ্য হয়েছে এবং বিস্তারিত বিশ্লেষণমূলক আলোচনার মধ্যেই এই প্রবন্ধে এর ক্রমবিকশিত উপাদানসমূহ স্পষ্ট হয়েছে।