ভারতীয় প্রেক্ষাপটে ‘কমিউনিকেশন’ তথা ‘যোগাযোগ’ প্রত্যয়টির পুনঃপাঠ
Abstract
পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এবং জ্ঞান-চর্চার আদি ক্ষেত্র রূপে পরিচিত ভারতীয় সভ্যতায় জ্ঞান-চর্চা হয়েছে পশ্চিম থেকে অনেকটা ভিন্ন পথে। কিন্তু যোগাযোগ প্রত্যয়ের প্রাচ্যীয় ব্যাখ্যা সেভাবে এখানে পরিচিত হয়নি। বরং ‘কমিউনিকেশন’-এর আলোচনা আধুনিক বাংলা বিদ্যায়তনে এসে যুক্ত হওয়ার পর এর অনেকটা আকস্মিক অনুবাদ করা হয়েছে ‘যোগাযোগ’। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলায় যোগাযোগ সংক্রান্ত যত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা, তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পশ্চিমা ‘কমিউনিকেশন’-এরই রূপান্তর। ‘কমিউনিকেশন’-এর অনুবাদ ‘যোগাযোগ’ কতটা যৌক্তিক এবং এর সাথে ভারতের জ্ঞানচর্চার আদৌ কোন সংযোগ বা বিরোধ রয়েছে কি না তা খুঁজে দেখা এই নিবন্ধের প্রাথমিক উদ্দেশ্য।
তবে প্রাচ্যে তথা বাংলায় যোগাযোগ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায় না, তারপরও বিভিন্ন প্রাচীন পুঁথি ও গ্রন্থাদি থেকে এখন পর্যন্ত যেটুকু তথ্য পাওয়া গেছে তা থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, ভারতীয় দর্শন বিশেষ করে বেদ, উপনিষদ, বৌদ্ধ বা জৈন দর্শনে ‘যোগাযোগ’ নিয়ে বেশ সমৃদ্ধ আলোচনা আছে। ভারতীয় দর্শন-চিন্তার প্রেক্ষাপটে যোগাযোগের ব্যাখ্যা অনেক গভীর ও তাৎপর্যময়। এখানে যোগাযোগ কেবল এক ব্যক্তির সাথে অন্য ব্যক্তির তথ্য, ভাব বা বাক্যের আদান-প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এখানে যোগাযোগকে দেখা হয়েছে এমন এক দর্শন হিসেবে, যা সমগ্র বিশ্বের সকল প্রাণকে সংযুক্ত করে কিভাবে মহাজ্ঞানের হদিস পাওয়া যায়, সে পথের দিকে ইঙ্গিত দেয়।